সুধারামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় বিআরডিবির মাঠ কর্মীর হত্যা মামলার খুনী রুবেল বাহিনী আজও গ্রেফতার হয়নি

269 Views

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক নোয়াখালী সময় ডট.কমঃ সুধারামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় বিআরডিবির মাঠ কর্মীর হত্যা মামলার খুনী রুবেল বাহিনী আজও গ্রেফতার হয়নি৷ এই নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে৷হতভাগ্য যুবকের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের বোবা কান্না চলছে৷ভিকটিমের মা মমতাজ বেগম হাউ-মাউ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,খুনি রুবেল বাহিনীর গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান৷ ভিকটিমের স্ত্রী শিরিন আক্তার বলেন, আমি এতিম দুই সন্তান নিয়ে এখন আমি কোথায় যাবো?কি করবো?দুই চোখে অন্ধকার দেখছি!আমি মাদক সম্রাট রুবেল ও ভাড়াটিয়া মাদক গ্যাংয়ের ফাঁশি দাবি করছি৷ স্কুল শিক্ষিকা সুলতানা নাসরিন অশ্রু সজল কন্ঠে বলেন, আমার দেবর মুকুলকে নির্মম নৃশংসভাবে আগাত করার পর আশংকাজনক অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করলে ১ মাস ১৭ দিন চিকিৎসার পর নিহত হোন৷ অসহায় সুলতানা নাসরিন বলেন ভিকটিম মুকুলের চিকিৎসা বাবদ হাসপাতালে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ব্যায় করা হয়৷ চিকিৎসাকালীন নোয়াখালীতে ভিকটিম পরিবার অনুপস্থিত থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা থানা পুলিশের সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রহণ করে৷ ভিকটিমের ভাবি সুলতানা নাসরিন বলেন,হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে সুধারাম মডেল থানার দারোগা জাহাঙ্গীরকে ৬ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়৷দারোগা জাহাঙ্গীরকে টাকা দেয়ার পরও মামলা সঠিক ভাবে গ্রহণ না করে উল্টো হয়রানি করেন ভিকটিমের পরিবার কে৷ নিহত হুমায়ুন কবির মুকুলের পিতা আবদুল কাদের দৈনিক নোয়াখালী সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কে বলেন সাহেবের হাট বাজারে প্রকাশ্যে আমার চোখের সামনে আমার ছেলেকে রুবেল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে৷এই হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও রহস্যজনক কারণে খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় মামলা প্রত্যাহার করতে ফের খুন ও গুমের হুমকি ধামকি দিচ্ছে আসামীরা৷ এব্যাপারে নোয়াখালী ৬নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত বলেন,আমি এই ন্যাকারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই, অন্য ইউনিয়ন থেকে ভাড়াটিয়া মাদক গ্যাং আমার ইউনিয়নে এসে মুকুলকে হত্যা করেছে৷সভ্য ও স্বাধীন দেশে এটা কারোর কাম্য নয়৷শোকাহত পরিবারের সাথে এই ঘটনার জড়িত দোষীদের বিচার ও শাস্তি দাবি করছি৷ নৈপথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত ১ অক্টোবর সকালে উপজেলার সাহেবের হাট পশ্চিম বাজারে নিহতের বাবার সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন হুমায়ুন কবির। সন্ত্রাসী কালা মিয়া, ওমর , সাহাবউদ্দিন, সবুজের নেতৃত্বে এবং রুবেলের মদদে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তার বাবার সামনে সন্তান হুমায়ুককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।শনিবার নিহত হুমায়ন কবির মুকুলকে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নিহত হুমায়ুন কবির মুকুল(৩৫) নোয়াখালী ইউনিয়নের আবদুল্যাহপুর গ্রামের আবদুল কাদেরে ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবির একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্পে নোয়াখালীর সেনবাগে মাঠ সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন।মুকুলের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে বিভিন্ন সময় মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতেন তিনি। কয়েক মাস আগে মাদক ব্যবসায়ী কালামের সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয়। এর জেরে গত ১ অক্টোবর সাহেবের হাট বাজারে মাদক ব্যবসায়ী কালাম, ওমর, সাহাব উদ্দিন, সবুজ, রুবেলসহ সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুত্বর আহত হয় মুকুল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মুকুলের স্বজন ও এলাকাবাসী এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জড়িত মাদকসেবীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন। এসময় শত শত মানুষ এই সন্ত্রাসীদের বিচার দাবী করেছেন।সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান পাঠান দৈনিক নোয়াখালী সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কে বলেন ঘটনার পর পরই এ ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলাটি এখন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।এই রিপোর্ট লেখার সময় পযর্ন্ত আসামীরা ধরা পড়েনি৷

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *